fbpx

দেশের প্রথম বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার যন্ত্রাংশ

কামরুল হাসান নিরবফেনীদেশের সর্বপ্রথম বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্র ‘মুহুরী প্রজেক্ট রেগুলেটর’ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় যন্ত্রাংশগুলো অকেজো হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলেও এটি চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করছে না কর্তৃপক্ষ। এতে প্রায় সাত কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। দশনিক ৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতাসম্পন্ন এ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দ্রুত চালু করার জন্য জোরালো দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী।

কোনো ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়া জেলার ফেনী নদী উপকূলে সোনাগাজী উপজেলার মুহুরী প্রজেক্টে দাঁড়িয়ে আছে চারটি পাখা। চারপাশ গোচারণভূমিতে পরিণত হয়েছে। সংরক্ষিত এ এলাকায় রাতে বসে মাদকসেবীদের আড্ডা।

এর আগে উৎপাদিত বিদ্যুৎ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে ব্যবহƒত হলেও এখন এ কেন্দ্রটি নিয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নেই কোনো মাথাব্যথা। ঠুনকো অজুহাত তুলে হাত গুটিয়ে বসে আছে সংশ্লিষ্ট দুটি কর্তৃপক্ষ। দেশে বিদ্যুতের এ সংকটপূর্ণ মুহূর্তেও বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সচল করার কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন না কেউ।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালে সোনাগাজী সদর ইউনিয়নে মুহুরী সেচ প্রকল্প এলাকায় থাক খোয়াজের লামছি মৌজায় দেশের প্রথম বায়ুশক্তিচালিত বিদ্যুৎ প্রকল্পটি নির্মিত হয়।

সাড়ে সাত কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল দিনে ৯০০ কিলোওয়াট (০.৯ মেগাওয়াট)। প্রকল্পটি নির্মাণ করে ভারতের নেভ্যুলা টেকনো সল্যুশন কোম্পানি লিমিটেড। নির্মাণের কয়েক মাস পরই যান্ত্রিক ত্রুটিসহ নানা অজুহাতে এটি বন্ধ হয়ে যায়। অথচ বৈশ্বিক সংকটের কারণ দেখিয়ে দেশে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকার জ্বালানি খরচ মেটাতে নিয়েছে নানা উদ্যোগ। ব্যয়বহুল তেল ও গ্যাসনির্ভর কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকার যখন হিমশিম খাচ্ছে, তখন কম খরচে ভিন্ন প্রযুক্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের দাবি উঠেছে সর্বত্র।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকার তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর এ পাইলট প্রকল্পটি আবার চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। প্যান এশিয়া পাওয়ার সার্ভিস কোম্পানির সঙ্গে উৎপাদনের জন্য চুক্তি করে ওই বছর প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে মেরামত করা হয়। প্রায় ছয় বছর উৎপাদন কার্যক্রমও চলেছিল।

তথ্যমতে, শুরু থেকে সর্বশেষ পর্যন্ত এ প্রকল্পে উৎপাদিত আট লাখ ৮৮ হাজার কিলোওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়েছে। দীর্ঘ দেড় বছর ধরে বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডসহ (পিডিবি) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কারও যেন মাথাব্যথা নেই।

জানা যায়, ২০২১ সালের ৫ জানুয়ারি সংগঠন ও পদ্ধতি পরিদপ্তর বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড রক্ষণাবেক্ষণ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সাতটি পদের অনুকূলে সাতজনকে কাগজে-কলমে পদায়ন করলেও বাস্তবে কেউ যোগ দেননি।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তারা বললেন ভিন্ন কথা। তাদের দাবি, এ প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বাতাসের (বায়ুর) যে পরিমাণ গতিবেগ থাকার কথা, সে পরিমাণ গতিবেগ না থাকায় কেন্দ্রটি বন্ধ রয়েছে। এটি চালু করার ব্যাপারে কোনো সমীক্ষা বা উদ্যোগ আছে কি নাÑজানতে চাইলে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ফেনী জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ছানা উল্লাহ বলেন, তিনি এক মাস আগে ফেনীতে যোগদান করেছেন। তাই প্রকল্পটির সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে তার তেমন কোনো ধারণা নেই। তবে শুনেছেন বায়ুর গতিবেগ কম থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন দেড় বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। সচল করার কোনো উদ্যোগ আছে কি নাÑজানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রকল্পটি সচল হওয়া জরুরি। তবে এখনও কোনো ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম সনৎ কুমার ঘোষ বলেন, বায়ুর গতিবেগ কম থাকায় এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ার শুরুতেই পল্লী বিদ্যুৎ ব্যবহার করে চালু করতে হয়। উৎপাদিত বিদ্যুৎ ও পল্লী বিদ্যুতের ব্যবহƒত বিদ্যুতের খরচ প্রায় অর্ধেক। প্রকল্পটি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে রয়েছে। শুধু উৎপাদিত বিদ্যুৎ পল্লী বিদ্যুতের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে ব্যবহƒত হতো। তবে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ দিয়ে এবং প্রকল্পটি মেরামত করে সচল করলে বিদ্যুতের ঘাটতি মেটাতে সহায়ক হবে।

সোনাগাজী পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, প্রকল্পটি চালু করা হলে সোনাগাজীতে চলমান এ সংকটের মধ্যে ঘাটতি মেটাতে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সহায়ক ভূমিকা রাখবে। তাই তিনি দ্রুত সমীক্ষা করে প্রকল্পটি আবার চালু করার দাবি জানান।

***ফেনী অনলাইন সংক্রান্ত যে কোন তথ্য ও আপডেট জানতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।***

FeniOnline.net Telegram Channel@FeniOnline

Comments

DMCA.com Protection Status
Bidvertiser2074653
error: Something went wrong !!