অর্থনীতি

দৃশ্যমান হচ্ছে ফেনী মহিপাল ফ্লাইওভার

ফেনী শহরের মহিপালে ৬ লেইনের দেশের সর্ববৃহৎ ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ অবশেষে গতি পেয়েছে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটির কাজ করছে আবদুল মোনেম লিমিটেড। ইতিমধ্যে ৬৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০১৮ সালের শুরুর দিকে এটির কাজ শেষ হতে পারে বলে জানিয়েছে নির্মাণ সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিশাল ফ্লাইওভার ক্রমেই দৃশ্যমান হচ্ছে। দুটি ক্রেন গার্ডার বসাচ্ছে। শ্রমিকরাও যার যার কাছে ব্যস্ত। এটি যত দ্রুত উদ্বোধন হবে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুর্ভোগ ও যাত্রার সময় তত কমে আসবে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীর যোগাযোগের মাঝামাঝি এলাকা ফেনীর মহিপালে ২০১৫ সালের নভেম্বরে শুরু হয় ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৯ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আবদুল মোনেম লিমিটেড। এজন্য মহাসড়কের চাঁড়িপুর রাস্তার মাথা সংলগ্ন স্থানে সেনাবাহিনীর নিজস্ব ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। নির্মাণ সামগ্রী রাখা হয়েছে তেমুহনী আল-মদীনা মৎস্য খামারে। দিন-রাত করে প্রতিদিন ৬৫০ জন শ্রমিক চালিয়ে যাচ্ছে এ কর্মযজ্ঞ।

মহিপালের প্রবেশপথ চাঁড়িপুর রাস্তার মাথা থেকে মহাসড়কের ফেনী পল্লী বিদ্যুত অফিস পর্যন্ত নির্মিত হবে ৬৬০ মিটারের ফ্লাইওভার। ইতিমধ্যে ৩৭০ মিটার কাজের শেষ হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দুটি র‌্যাম্পের কাজ শুরু হবে। ফ্লাইওভারের দুই মাথায় ১৪৫ মিটার করে ঢাল নির্মাণ করা হবে। ২০টি পিলারের সবকটি নির্মিত হয়েছে। দুটি এপার্টমেন্টের একটির কাজ শেষ হয়েছে। অপরটিও শেষ হওয়ার পথে।

১৩২টি গার্ডারের মধ্যে ১৮টি বসানো হয়েছে। আরো ২৬টি গার্ডার তৈরি রয়েছে। গার্ডার স্থাপনে একশ টন ক্ষমতাও দুটি ও ৩৫ টন ক্ষমতার একটি হাইড্রোলিক ক্রেন কাজ করছে। পিয়ার ক্যাপ ১০টির মধ্যে ছয়টি শেষ হয়েছে। ৫০৬টি ক্রস গার্ডারের মধ্যে ৪৪টি স্থাপন হয়েছে।


ফ্লাইওভারের দুই পাশে দুই হাজার ২১০মিটার ড্রেনের মধ্যে এক হাজার দুইশ মিটার কাজ শেষ হয়েছে। এছাড়া ফ্লাইওভারের নিচে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের এক হাজার ৩২০মিটারের দুটি রাস্তাও নতুন করে পিচ ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। সড়ক দুটি ঢাকা ও চট্টগ্রাম অভিমুখী গাড়ী চলাচলের জন্য উম্মুক্ত করা হয়েছে।

প্রকৌশলী মিজানুল হক বলেন, ২০১৮ সালের জুন মাসে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে। তবে নির্ধারিত সময়ের আগে মার্চ-এপ্রিলেই শেষ করা হতে পারে।

জানতে চাইলে সেতু মন্ত্রণালয়ের এসডব্লিউবি এর পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল রেজাউল মজিদ বলেন, ১৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ হবে। যথাসময়ে কাজ করতে বরাদ্দ আরও বাড়ানো হতে পারে।

সুত্র: ঢাকাটাইমস

Comments

comments