ফেনী

ফেনী রেল স্টেশনে আতংকে যাত্রীরা

feni railway station
ফেনী রেলওয়ে স্টেশন ওয়েটিংরুম, প্ল্যাটফর্ম সবখানেই পকেটমার, ছিনতাইকারী ও মাদকসেবীদের দৌরাত্ম্য বেড়ে গেছে। এতে আতংকে রয়েছে সাধারণ যাত্রীরা। সীমানা প্রাচীর না থাকায় এখানে এসব অপকর্ম সংগঠিত হচ্ছে বলে মনে করেন যাত্রীরা। এদিকে কর্তৃপক্ষের উদাসিনতায় রেলওয়ের প্রবেশদ্বার, বিশ্রামাগারসহ যত্রতত্র ময়লা আবর্জনার স্তুপ পড়ে থাকায় সাধারণ যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ।
 
শুক্রবার সকাল ৯টায় চট্রগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মহানগর প্রভাতি ট্রেনে ফেনী স্টেশন থেকে উঠার সময় পকেটমারের শিকার হন ফেনীর স্থানীয় সাংবাদিক সাঈদ খানের পরিবারের সদস্যরাসহ আরো প্রায় ১০ যাত্রী। 
 
সাঈদ খানের ছেলে মাসুদ খান জানায়, ট্রেনে ওঠে তিনি দেখেন তার পকেটে মানিব্যাগ নেই ও তার মায়ের পার্টেসে থাকা মোবাইল নেই। ট্রেনের আরেক যাত্রী রুবেল হোসেন জানায়, পকেটে থাকা তার মানিব্যাগটি নিয়ে গেছে তবে মোবাইল হাতে থাকায় রক্ষা পেয়েছে। তিনি আরো জানান, তার সাথে একই বগিতে থাকা অপর নারী যাত্রীর মোবাইলসহ আরো এই ট্রেনের আরো প্রায় ৭ থেকে ৮ জন যাত্রী পকেটমারের শিকার হয়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন। 
 
ফেনী জজ কোর্টের আইনজীবী সহকারী স্বপন কুমার জানায়, তার এক আত্মীয় কিছুদিন পূর্বে ট্রেনযোগে ফেনী থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে ফেনী রেল স্টেশনে ছিনতাইকারীর কবলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সর্বস্ব হারিয়েছেন। এই প্রতিবেদকের পকেটে থাকা মোবাইলও প্রায় ১০ মাস আগে ফেনী রেলওয়ে স্টেশন থেকে পকেটমাররা নিয়ে যায়। এই ব্যাপারে ফেনী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছে। 
 
রেলষ্টেশনস্থ ব্যবসায়ীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রায় প্রতিদিনই এভাবে ফেনী রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রী উঠা নামার সময় পকেটমারের শিকার হন এবং স্টেশনকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্য চলে মাদক ও পতিতা ব্যবসা।     
 
প্রথম শ্রেণির এই রেলওয়ে স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৩৪টি ট্রেন দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে। এসব ট্রেনে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে তিন হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন। স্টেশনটির চারপাশে সীমানা প্রাচীর না থাকায় চোর-ছিনতাইকারীদের উৎপাতে যাত্রীদের মুল্যবান জিনিস খোয়া যাচ্ছে প্রতিনিয়িত। স্টেশনে একটি তথ্য সেবা কেন্দ্র থাকলেও সেটিতে সব সময় দেখা যায় ফাঁকা। স্টেশনে যাত্রীদের বিশ্রামের বা ট্রেনের জন্য অপেক্ষার জন্য একটি ভিআইপি ওয়েটিং রুম, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেনির দুটি কক্ষ ও প্লাটফর্মে চেয়ারে দুইশত যাত্রী বসার ব্যবস্থা রয়েছে। আর প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির রুমের চেয়ার ভাঙ্গাচোরা। ওইসব কক্ষের টয়লেটগুলো নোংরা ও ব্যবহারের প্রায় অনুপযোগী। প্লাটফর্মে ময়লা আবর্জনা পড়ে থাকলেও পরিছন্নতাকর্মীর অভাবে সার্বক্ষনিক স্টেশনটি অপরিস্কার থাকে। দুর্গন্ধের কারনে যাত্রীরা নাকে রুমাল চেপে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। শুধু তাই নয়, এক শ্রেণির অসাধু কর্মচারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দেখা যায় অবৈধভাবে ট্রেনের চালক ও কর্মচারীদের সাথে লেনদেন করে বিনা টিকেটে যাত্রীদের ট্রেনে তুলে দিতে ও ট্রেন থেকে প্লাটফর্ম পার করে দিতে।
 
ব্যবসায়ি আবু বক্কর জানান, ঢাকা থেকে ফেনী আসার সময় মহানগর গৌধুলীর ফেনীর টিকেট না পেয়ে তিনি লাকসাম পর্যন্ত টিকেট কাটেন। ফেনী স্টেশন পার হওয়ার সময় এক টিকেট কালেকটর তাকে আটক করে একশত টাকা আদায় করেন জরিমানা বাবদ। 
 
রসিদ চাইলে তিনি জানান, আমার নাম সুমন আমার বাড়ি মাস্টার পাড়া, বাড়াবাড়ি করবেন না, পুলিশে দিয়ে দেব। 
 
তিনি জানান, ট্রেনে থাকা কর্মচারীদের টাকা দেয়ার সুবাধে ৬-৭ জন যাত্রী এই টিকেট কালেকটরের সামনে দিয়ে রেলওয়ে স্টেশন পার হয়ে গেলেও তাদের কিছু বলেননি। 
 
এসব কর্মচারীরা ট্রেনের চালকের রুমে পর্যন্ত টাকার বিনিময়ে তুলে দিচ্ছে যাত্রীদের। কেন্টিনের বয়রা আগে থেকেই জানেন কোন সিটের টিকেট বিক্রি হয়নি। তারপর তারা ওই সকল সিট দখলে রেখে বিক্রি করেন বিনা টিকেটের যাত্রীদের কাছে।    
 
ফেনী রেলওয়ে স্টেশনের ইনচার্জ উপ-পুলিশ পরিদর্শক মো. মেজবাহ্ উল আলম জানান, সাংবাদিক সাঈদ খানের অভিযোগটি পেয়েছি। ট্রেনে যাত্রীদের প্রচুর চাপ থাকায় সনাক্ত করতে পারছি না। সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছি।
 
ফেনী রেলওয়ে স্টেশন মাষ্টার মো. মাহবুবুর রহমান জানান, পকেটমারের ঘটনাটি শুনে পুলিশের উপ-পরিদর্শককে জানিয়েছি ও আরো তৎপর হওয়ার জন্য তাগিদ দিয়েছে। আর টিকেট কালেকটরসহ রেলওয়ের অন্য কোন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। রেলওয়ে স্টেশনের সীমানা প্রাচীর না থাকায় এসব অপকর্ম হচ্ছে বলেও তিনি স্বীকার করেন।

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *