ফেনী

ফেনীর আলোচিত সেই অস্ত্র মামলা:একজনের সাক্ষ্য গ্রহন-তিনি অস্ত্র ও আসামী দেখেন নি

arest with arms

ফেনীতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ২৬ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে আলোচিত অস্ত্র মামলার জব্দ তালিকার স্বাক্ষী মাসুদ রানা সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। এর আগে গত ১৬ জুন মামলার বাদী র‌্যাব-৭ ফেনীর ক্যাম্পের জ্যেষ্ঠ ওয়ারেন্ট অফিসার মো. ইব্রাহিম সাক্ষ্য প্রদান করেন।জেলা ও দায়রা জজ দেওয়ান মো. শফিউল্লাহর আদালতে মঙ্গলবার এ সাক্ষ্য গ্রহন করা হয়।
আদালত সুত্র জানায়, মামলার ২৬ জন আসামীর সবাই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে কারাগারে থাকা ২৩ আসামীকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আদালতে হাজির করা হয়। জামিনে থাকা তিন জন আসামী নিজেরাই আদালতে হাজির হয়েছেন। আদালতে আসামী পক্ষের আইনজীবীদের জেরা শেষে কারাগার থেকে হাজির করা আসামীদের আবার কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। আদালত আগামী ০৯ আগষ্ট পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহনের দিন ধার্য করেন।

সরকারী কৌঁশুলী (পিপি) হাফেজ আহম্মদ জানায়, মামলার আলামত জব্দ তালিকার স্বাক্ষী মাসুদ রানা গতকাল আদালতে সত্য গোপন করে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান করেন। এ সময় তাঁকে বৈরী ঘোষনা করা হয় এবং পিপি নিজেই তাঁকে জেরা করেন। তিনি জানান, মামলায় কারাগারে আটক থাকা ২৩ জন আসামীকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আদালতে হাজির করা হয় এবং আবার কারাগারে নেয়া হয়েছে। তিনজন আসামী জামিনে ছিলেন।

তিনি বলেন, আসামী পক্ষের আইনজীবীগন কয়েকজন আসামীর পক্ষে জামিন আবেদন করেন, কিন্তু আদালত নামঞ্জুর করেন।
আসামী পক্ষের আইনজীবি আনোয়ারুল করিম ফারুকের তথ্যমতে মামলার জব্দ তালিকার স্বাক্ষী মাসুদ রানা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লালপুল এলাকার একজন হোটেল মালিকের কলেজ পড়–য়া ছেলে। তিনি লেখাপড়ার পাশাপাশি তাঁর বাবার হোটেলও দেখাশোনা করেন। র‌্যাব সদস্যরা তাকে দোকান থেকে ডেকে নিয়ে জব্দ তালিকায় তার স্বাক্ষর আদায় করেন। মাসুদ রানা আদালতে সাক্ষ্য প্রদানকালে বলেন- তিনি কোন ধরনের অস্ত্র দেখেন নি এবং কোন আসামীকেও দেখেন নি।
গত বছরের ৬ জুন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী সদর উপজেলার লালপুল এলাকায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীরা সোনাগাজী ফেনী ফেরার পথে র‌্যাব সদস্যরা তিনটি মাইক্রেবাস তল্লাশী করে বিপুল পরিমান অস্ত্র উদ্ধার করে। এ ঘটনায় র‌্যাব-৭ ফেনী ক্যাম্পের জ্যেষ্ঠ ওয়ারেন্ট অফিসার মো. ইব্রাহিম বাদী হয়ে ফেনী সদর মডেল থানায় একটি অস্ত্র মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি পরবর্তী সময় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) হাতে ন্যাস্ত করা হয়। ঢাকার সিআইডি পরিদর্শক গোলাম মোস্তফা গত ২৮ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার ২৬ আসামীর সকলের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *