লাইফস্টাইল

দুঃখবোধ মানেই বিষন্নতা নয়!

লেখক: আফসানা সুমী

মন খারাপ হওয়া স্বাভাবিক সুস্থ জীবনেরই অংশ। ছবি- নূর, মডেল- সাদিয়া আফরোজ, প্রিয়.কম

আপনাকে যদি প্রশ্ন করা হয় ‘আপনি কি মাঝে মাঝে বিষন্ন বোধ করেন?’ আপনি কিন্তু তেমন না ভেবেই বলবেন, ‘হ্যাঁ’। কিন্তু আপনি কি জানেন বিষন্নতা আর মন খারাপ মোটেও এক জিনিস নয়? বিষন্নতা একটি গুরুত্বর বিষয়। বিষন্নতাগ্রস্থ একজন মানুষের প্রয়োজন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের। কিন্তু মন খারাপ, মানসিক দুঃখবোধ এগুলো থেকে মুক্তি রয়েছে আপনার নিজের হাতেই।

সাম্প্রতিক একটি জরিপে দেখা গেছে, সারা বিশ্বে ৩৫ কোটিরও বেশি মানুষ বিষন্নতাজণিত মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়। তবে কিছু স্টাডিতে উঠে এসেছে ভিন্ন একটি বিষয়। যথাযথ উপায়ে রোগ নির্নয় না করেই অ্যান্টি-ডিপ্রেশন ঔষধ সেবন করছেন অনেকেই। দুঃখ-কষ্ট জীবনে থাকবেই, সবকিছুই কিন্তু বিষন্নতা রোগের আওতায় পড়বে না। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেছেন সাইকো থেরাপিস্ট এবং লেখক এম. গেরি নিউম্যান। ক্লিনিকাল ডিপ্রেশন এবং দুঃখবোধের মাঝে পার্থক্য নিয়ে কথা বলেন তিনি। তার মতে, আবেগের স্বাস্থ্যকর চর্চার একটি স্বাভাবিক অংশ দুঃখবোধ।

নিউম্যান বলেন,
‘চিকিৎসকের কাছে যাওয়া এবং বলা যে আপনি বিষন্নতায় ভুগছেন এর মানে এই নয় যে আপনি বিষন্নতাগ্রস্থ মানসিক রোগী। বিগত ২০ বছরে অ্যান্টি-ডিপ্রেশনের ঔষধসেবনকারীর সংখ্যা বেড়েছে ৪০০%। যুক্তরাষ্ট্রের ১১ শতাংশ মানুষ (বয়স ১২ এবং তার বেশি) বিষন্নতার জন্য চিকিৎসা নিয়ে থাকে। জন হপকিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিষন্নতাগ্রস্থ ৫ হাজার মানুষের উপর একটি গবেষণা পরিচালনা করা হয়। গবেষণার এক পর্যায়ে জানা যায় বিস্ময়কর তথ্য। এদের মধ্যে ৬০ শতাংশ মানুষই বিষন্নতার মেডিক্যাল ক্রাইটেরিয়ায় পড়েন না। অথচ এদের ৭৫ শতাংশকেই অ্যান্টি-ডিপ্রেশনের ঔষধ সেবন করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’

উদ্বিগ্নতা প্রকাশ করে নিউম্যান বলেন,
‘একজন নারী মাসে কতটা কাঁদেন বলে আপনি মনে করেন? আপনি কি জানেন, আপনি যদি মাসে ৫ থেকে ৬ বার কাঁদেন তাহলে সেটি একদমই স্বাভাবিক একটি বিষয়? দুঃখবোধ স্বাভাবিক স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের একটি অংশ। চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় ভাবুন। আপনার পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস নিয়ে ভাবুন, ঘুমের বিষয়ে ভাবুন, ভাবুন শরীরচর্চা নিয়েও। এই ৩টি বিষয় মানুষকে স্বাভাবিক পর্যায়ের বিষন্নতা বা দুঃখবোধ মোকাবেলায় সাহায্য করে। এই বিষয়গুলোর আপনি সঠিক চর্চা করুন, জীবনে পরিবর্তন আনুন আর তারপরও যদি আপনার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ব্যহত হয় এবং আত্মহত্যার ভাবনা আপনাকে তাড়িত করতে থাকে- তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। তবে জেনে রাখুন, বিভিন্ন স্টাডিতে দেখা গেছে, আপনি যদি চিকিৎসাধীনও থাকেন সেক্ষেত্রেও আপনার জন্য ‘টক থেরাপি’, পুষ্টিকর খাদ্যাভাস, শরীরচর্চা এবং পর্যাপ্ত ঘুম খুবই কার্যকরি।’

 তিনি আরও যোগ করেন, ‘নিজেকে ভালোবাসা স্বার্থপরতা নয়। বরং এটি একটি স্মার্টনেস। নিজের যত্ন নিন যাতে আপনি অন্যদেরও যত্ন নিতে পারেন সুন্দরভাবে।’

নিজের বাহ্যিক যত্ন নিই আমরা সবাই। মানসিক যত্ন নিই না। নিজেই আগে উদ্যোগী হয়ে নিজেকে গোছাতে সচেষ্ট হোন। ঔষধ নির্ভর না হয়ে চেষ্টা করুন ভাল থাকার। প্রয়োজনে নিজের অবস্থা ওপরের সাথে শেয়ার করে মন হালকা করুন। তবে এক্ষেত্রে যে কারও সাথে আলোচনা আর এলোমেলো মতামতের চেয়ে অভিজ্ঞ কাউন্সিলরের স্মরণাপন্ন হওয়া ভাল। এটাকেই বলা হচ্ছে ‘টক থেরাপি’।

সূত্র- বিজনেস ইনসাইডার

Comments

comments