বিনোদন

চলচ্চিত্র ২০১৬: লোকসানের পাল্লাই ছিল ভারি

নতুন বছর দ্বারে এসে অপেক্ষার প্রহর গুনছে। আর পুরনো বছরের হিসেব-নিকেশ নিয়ে অনেকেই খেড়ো খাতাটা খুলে বসেছেন। সেটি শোবিজ কিংবা চলচ্চিত্রের অভিনয়শিল্পীদের আলোচনা-সমালোচনার যোগ-বিয়োগের খাতা। বেশ কয়েকটা বছর পরে এ বছর বাংলা চলচ্চিত্র অনেকটাই সম্ভাবনাময় অবস্থানে ছিল। বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক ধারার ছবি ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোন থেকে আলোচনায় ছিল। সেই  সাথে ভিন্নধারার বেশ কয়েকটি ছবি চলচ্চিত্র সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। এ বছর ৫৫টি ছবি মুক্তি পেয়েছে। তারমধ্যে বেশকিছু বাণিজ্যিক ধারার এবং ভিন্নধারার ছবিও ছিল।

 

এ বছরে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি

১. মাটির পরী ২. ভুল যদি হয় ৩. অঙ্গার ৪. আন্ডার কন্সট্রাকশন ৫. পুড়ে যায় মন ৬. রাজা -৪২০ ৭. সুইটহার্ট ৮. ভালোবাসবোই তো ৯. হিরো ৪২০ ১০. কৃষ্ণপক্ষ ১১. ছিন্নমূল ১২. গুন্ডামী ১৩. বুলেট বাবু ১৪. ছোটকাকু কক্সবাজারের কাকাতুয়া ১৫. মিয়া বিবি রাজি ১৬. ভোলা তো যায়না তারে ১৭. উতলা মন ১৮. মন জানেনা মনের ঠিকানা ১৯. পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনি-২ ২০. অনেক দামে কেনা ২১. শঙ্খচিল ২২. মুসাফির ২৩. আইসক্রিম ২৪. বাজে ছেলে- দ্যা লোফার ২৫. অস্তিত্ব ২৬. অজান্তে ভালোবাসা ২৭. রুদ্র- দ্য স্টোরি অব এ গ্যাংস্টার।

২৮. দিওয়ানা মন ২৯. শিকারি ৩০. সম্রাট- দ্য কিং ইজ হিয়ার ৩১. রানা পাগলা- দ্য মেন্টাল ৩২. বাদশা- দ্য ডন ৩৩. দর্পণ বিসর্জন ৩৪. আড়াল ৩৫. নিয়তি ৩৬. অজ্ঞাতনামা ৩৭. মাস্তানি ৩৮. এক জবানের জমিদার হেরে গেলেন এইবার ৩৯. পৌষ মাসের পিরীত ৪০. বসগিরি ৪১. শ্যুটার ৪২. রক্ত ৪৩. আয়নাবাজি ৪৪. প্রেম কি বুঝিনি ৪৫. চোখের দেখা ৪৬. এক রাস্তা-ওয়ান ওয়ে ৪৭. ভালোবাসাপুর ৪৮.যদি তুমি জানতে ৪৯.এক পৃথিবী প্রেম ৫০. একাত্তরের নিশান ৫১.মিসকল ৫২. চোখের দেখা ৫৩. মাস্তানি ৫৪.লাল সবুজের সুর ৫৫.বায়ান্ন থেকে একাত্তর ৫৬.মুখোশ মানুষ। [ছবিটি ৩০ ডিসেম্বর মুক্তি পাচ্ছে]

ব্যবসা সফল, আলোচিত, প্রশংসিত ও সমালোচিত

শিকারি

ঢাকাই ছবির নায়ক শাকিব খানের ক্যারিয়ারে এ ছবিটি ভিন্ন এক মাত্রা যোগ করে। এ বছরের ঈদুল ফিতরে মুক্তি পায় ছবিটি। বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রযোজনায় ছবিটি নির্মিত হয়েছে। ছবিটি মুক্তির পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে এক ধরনের আলোচনা দেখা গেছে। নতুন রূপের শাকিব কে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন সকলেই।  অনেকদিন পরে  সারা দেশের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে দর্শকদের ঢল নেমেছিল। যার কারণে এ বছরের সবচেয়ে বাণিজ্যিকভাবে সফল ছবির তালিকায় শিকারি।  ছবিটি নির্মাণ করেছেন বাংলঅদেশের জাকির হোসেন ও কলকাতার জয়দেব মুখার্জি। প্রধান দুটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন-শাকিব খান ও শ্রাবন্তী। আর মুক্তি পেয়েছে ৭ জুলাই।

আয়নাবাজি

জনপ্রিয়  বিজ্ঞাপন ও নাটক নির্মাতা অমিতাভ রেজা যখন ‘আয়নাবাজি’ চলচ্চিত্রটি নির্মাণের ঘোষণা দিলেন তখন থেকেই ছবিটি এক ধরনের উচ্ছ্বাস দর্শকদের মধ্যে দেখা গিয়েছে। আর মুক্তির পর টানা আট সপ্তাহ সারাদেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি চলেছে। আর কোথাও কোথাও দর্শকদের উপচে পড়া ভীড় সামলাতে পুলিশ মোতায়েনের খবরও পাওয়া গিয়েছে। আর ছবির প্রধান দুই অভিনয়শিল্পী প্রশংসায় জোয়াড়ে ভেসেছেন।  ছবিটি ৩০ সেপ্টেম্বর মুক্তি পেয়েছে।

শঙ্খচিল

ভারতীয় বাঙালি চলচ্চিত্র পরিচালক গৌতম ঘোষ বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রযোজনায় শঙ্খচিল ছবিটি নির্মাণ করেছেন। ছবিটি মুক্তির পর এক শ্রেণীর দর্শকদের কাছ থেকে প্রশংসা কুড়িয়েছে ছবিটি। এতে প্রধান তিনটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন কলকাতার প্রসেনজিৎ, বাংলাদেশের কুসুম শিকদার ও সাঁঝবাতি। ছবিটি ৮ এপ্রিল মুক্তি পায়। তবে সাঁঝবাতির অভিনয় দারুণ প্রশংসা কুড়িয়েছে।

সম্রাট

ঢাকাই ছবির জনপ্রিয় নায়ক-নায়িকা (শাকিব-অপু) জুঁটি বেধে ছবিটিতে অভিনয় করেন। আর অনেকটা সময় ধরেই অপুর কোন খোঁজ খবর নেই! যার কারণে এ বছরে বিভিন্ন সময়ে অপু বিশ্বাসের নামটি আলোচিত হয়েছে। প্রকাশিত হয়েছে নানান চটকদার খবরও। ছবিটি মুক্তির আগে দর্শকদের এক ধরনের আগ্রহ দেখা গিয়েছে। আর কয়েকটি গান দর্শকদের কাছে থেকে প্রশংসা কুড়িয়েছে। পোশাকের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। ছবিটি পরিচালনা করেছেন মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ।

বাদশা

ঢাকাই ছবিতে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য জোড় প্রচেষ্টা করে যাচ্ছেন টিভি পর্দার জনপ্রিয় মুখ নুসরাত ফারিয়া। এ বছরের  ৭ জুলাই মুক্তি পায় ফারিয়া ও জিৎ অভিনীত বাদশা ছবিটি। ছবিটি পরিচালনা করেছেন বাংলাদেশের আব্দুল আজিজ ও কলকাতার রাজেশ কুমার যাদব। বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ প্রযোজনার ‘বাদশা’ দিয়েই ঢাকাই ছবিতে অভিষেক হয় টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা জিতের। বাংলাদেশে ছবিটি মুক্তি পাওয়ার পর এক ধরনের আলোচনা থাকলেও বাণিজ্যিকভাবে সফলতা পায় নি। তবে কলকাতায় ছিল ঠিক তার উল্টো চিত্র।

অজ্ঞাতনামা

জনপ্রিয় অভিনেতা ও নির্মাতা তৌকির আহমেদ পরিচালিত ‘অজ্ঞাতনামা’ ছবিটি সাধারণ দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতেই ছিল না। তবে একশ্রেনীর দর্শক আবার ছবিটি গ্রহণ করেছে। আন্তজার্তিক বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসব থেকে ছবিটি প্রশংসাও পুরস্কার জয় করেছে। এ ছবির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন, মোশাররফ করিম, ফজলুর রহমান বাবু, শহীদুজ্জামান সেলিম ও নিপুণসহ আরও অনেকে। ছবিটি ১৯ আগস্ট মুক্তি পায়।

কৃষ্ণপক্ষ

জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ এর ‘কৃষ্ণপক্ষ’ উপন্যাস অবলম্বনে মেহের আফরোজ শাওন এ ছবিটি পরিচালনা করেন। ছবিটির প্রিমিয়ার হয় ১৩ ফেব্রুয়ারি। আর সারা দেশে মুক্তি পায় ২৬ ফেব্রুয়ারি। এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে মেহের আফরোজ শাওন চলচ্চিত্র পরিচালনায় আত্মপ্রকাশ করেন। চলচ্চিত্রটি ১৬টি সিনেমা হলে মুক্তি পায়।ছবিতে প্রধান দুটি চরিত্রে অভিনয় করেন রিয়াজ ও মাহি। ছবিটির শুটিং চলাকালীন রিয়াজ হৃদরোগে আক্রান্ত হন। অপারেশন করার পর তিনি কিছুটা সুস্থ হয়ে ছবিটির বাকি অংশের শুটিং সম্পন্ন করেন।

আইসক্রিম

একটি ত্রিভুজ ভালোবাসার গল্প ছবিটিতে তুলে ধরা হয়েছে। ‘ভালোবাসা যে যত্নে রাখতে হয়, ভালোবাসাকে ভালো বাসতে হয়’ এই প্রতিপাদ্যের ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে এর মুল কাহিনি। পরিচালনা করেছেন রেদওয়ান রনি। এতে অভিনয় করেছেন উদয়, তুষি, রাজ, এটিএম শামসুজ্জামান, ওমর সানী, নাদিয়া খানম, প্রয়াত দিতি ও সায়েম সাদাত। ২৯ এপ্রিল ‘আইসক্রিম’ ছবিটি মুক্তি পেয়েছে। ছবিটি নিয়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এক ধরনের আগ্রহ ছিল।

অস্তিত্ব

শুভ-তিশা জুটির প্রথম চলচ্চিত্র ‘অস্তিত্ব’। ছবিটি পরিচালনা করেছেন অনন্য মামুন। ৬ মে মুক্তি পেয়েছে ছবিটি। ছবিটি মুক্তির পর বাণিজ্যিক ছবির দর্শকদের কাছ থেকে অতটা সাড়া পায় নি। এরপর দেশের বেশ কয়েক জায়গায় বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।‘অস্তিত্ব’ ছবিতে শুভ-তিশা ছাড়াও অভিনয় করেছে সুচরিতা, সুজাতা, আজিম, নিঝুম রুবিনা, ডন প্রমুখ। এ ছবির চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন পরিচালক মামুন নিজেই। নানা বিপত্তি পেরিয়ে শিশুদের অলিম্পিকে অংশগ্রহণের স্বপ্নপূরণে তাদের শিক্ষকের সহযোদ্ধা হয়ে যাওয়ার গল্প নিয়ে এগিয়ে গেছে অস্তিত্বের কাহিনী।

প্রেম কি বুঝিনি

বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ প্রযোজনার নিয়মনীতি না মেনেই ‘প্রেম কি বুঝিনি’ ছবিটি নির্মিত হয়েছে। এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে ছবিটি নিয়ে এক ধরনের বিতর্ক  তৈরি হয়। সেটি গড়ায় সেন্সরবোর্ড ও তথ্যমন্ত্রণালয় পর্যন্ত গড়ায়। এদিকে চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন বাংলাদেশের আব্দুল আজিজ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নির্মাতা সুদীপ্ত সরকার। এখানে নির্মাতা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন ওম ও শুভশ্রী। আর তারা উভয়েই ভারতের বাসিন্দা। যা যৌথ প্রযোজনার নিয়মের সাথে সাংঘর্ষিক।  যদিও পরে ছবিটি নির্দিষ্ট সময় মানে ৭ অক্টোবর মুক্তি পায়।

তথ্যসূত্র:  বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি, চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতি

Comments

comments