ফেনী

গেইটে তালা দিয়ে ভিতরে ঘুষ লেনদেন ফেনী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে রমরমা বদলী বানিজ্য

primary education office feni

প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলী হওয়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ফেনী জেলা ও সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। বদলী হতে নানা বাহানা করে জনপ্রতি ১০ থেকে ৫০ হাজার টাকাও আদায় করা হয়েছে। সরকারি কার্যদিবসে শিক্ষা অফিসের গেইটে তালা দিয়ে দিনভর ভিতরে ঘুষ লেনদেন চললেও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ছিল নির্বিকার। মঙ্গলবার সরেজমিনে ফেনী সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে গিয়ে দেখা গেছে এ চিত্র। এসময় ভুক্তভোগী শিক্ষকগন শিক্ষা অফিসের বদলী বানিজ্যের নানা চিত্র তুলে ধরেন।


সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র জানায়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক প্রজ্ঞাপনে শিক্ষকদের বদলী আদেশ দেয়া হয়। ওই আদেশের পর থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা সুবিধাজনক স্থানে বদলী হতে উপজেলা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে টেবিলে টেবিলে ঘুরেছে। শিক্ষা অফিসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছেও ধরণা দেয়। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে শিক্ষা অফিসের অসাধু কর্মকর্তারা লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। বদলীর নির্ধারিত তারিখের শেষ দিন মঙ্গলবার আবেদনকারী শিক্ষকরা ভীড় জমান। গেইট বন্ধ থাকায় নতুন আবেদন জমা কিংবা কোন তথ্যও জানতে পারেননি। দুপুর ১ টার দিকে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে গিয়ে দেখা গেছে, অফিসের গেইটে তালা ঝুলছে। শিক্ষা কর্মকর্তা আবু ইউসুফ নিজেই উৎকোচের টাকা গ্রহনে ব্যস্ত। ফোন বন্ধ থাকায় বাইরে থেকে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তার দেয়া সংকেত অনুযায়ী পিয়ন এসে বাইরে থেকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে ডেকে ভিতরে নিয়ে যায়। মাঝে মাঝে নিজেও এসে পছন্দের শিক্ষকদের ডেকে নিতে দেখা গেছে। অপেক্ষমান শিশির নামে বদলীর জন্য আবেদনকারী এক শিক্ষকের অভিভাবকের সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, অন্যত্র বদলী হতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবু ইউসুফকে ১০ হাজার টাকা দিয়েছেন। কিন্তু চাহিদানুযায়ী টাকা না দেয়ায় বদলী মঞ্জুর করেননি। বরং ফাইলটি জেলা শিক্ষা অফিসে আটকে রাখেন এ কর্মকর্তা। সংসদ সদস্য, সচিব সহ বিভিন্ন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিষেধ আছে বলে বাহানা দিয়ে তার অপছন্দের ফাইল আটকে রাখেন।


বালিগাঁও ইউনিয়নের কাতালিয়া থেকে আসা এক শিক্ষিকা জানান, সকাল ৯ টায় তিনি বদলীর খোঁজ নিতে আসেন। গেইট ও শিক্ষা কর্মকর্তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় দুপুর ২ টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে ফিরে যান। শুধু ওই শিক্ষিকাই নয়, দূর-দূরান্ত থেকে আসা অসংখ্য শিক্ষককে ফিরে যেতে দেখা যায়। পরশুরামের এক প্রধান শিক্ষক উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে ১০ হাজার টাকা দিয়ে সম্মতি আদায় করলেও একপর্যায়ে আরও বেশি টাকার জন্য তার ফাইলটিও আটকে যায় বলে একাধিক শিক্ষক জানান।
ফেনী পিটিআই সংলগ্ন পরীক্ষন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তাদের মাসিক হাজিরার শীট জমা দেয়ার জন্য শিক্ষা অফিসে গিয়েছিলেন। অফিস বন্ধ রাখায় দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করে চলে যান। তিনি আরো বলেন, পৌর এলাকার কোন নাগরিক ছাড়া বাইরের শিক্ষক পিটিআইতে ডেপুটেশনে নিয়োগের বিধান নেই। অথচ জেলা শিক্ষা অফিসের কম্পিউটার অপারেটর মুজিবের স্ত্রী রেহানা আক্তার মজুমদারকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে চৌদ্দগ্রামের পদুয়া থেকে ডেপুটেশনে এনে পাইলট প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ দেয়। এর কিছুদিন পরই গতকাল মঙ্গলবার পিটিআই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলী করা হয়।


বদলীর জন্য আবেদনকারী একাধিক শিক্ষক জানান, ফাইলগুলো সদর উপজেলা থেকে জেলা শিক্ষা অফিসে পাঠানো হয়। সেখানে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল আজিজকে টাকা না দেয়ায় দিনের পর দিন ফাইল পড়ে থাকায় বদলী আটকে যায়।


তবে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু ইউসুফ উৎকোচ আদায়ের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, শিক্ষকদের ভীড় সামলাতে তালা বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী আবেদনকারীদের বদলী করা হচ্ছে।

সুত্র: দৈনিক ফেনীর সময়

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *