নির্বাচিত

কর্মস্থলে ডাক্তারদের অনুপস্থিতি রুগীদের ভোগান্তি ।। বছরে সরকারের গচ্চা সোয়া কোটি টাকা

ফাইল ফটো
ফাইল ফটো

ফেনী জেলার সরকারী হাসপাতাল গুলিতে ডাক্তার কমকর্তাদের অনুপস্থিতির কারনে স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। চিকিৎসা নিতে আসা জনগনের ভোগান্তি ছাড়াও কর্মস্থলে ডাক্তার কমকর্তারা উপস্থিত না থেকেও প্রতিমাসে বেতন নিচ্ছে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা  যা  গত এক  বছরে  প্রায় সোয়া কোটি টাকা। স্থানিয় প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেটের কারনে   তাদের ব্যাপারে কোন  ব্যবস্থা নিতে পারছেনা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা।   খবর সংশ্লিষ্ট সুত্রের।

অনুসন্ধানে জানা যায়- ফেনী জেলার হাসপাতাল গুলিতে ফেনী জেলা ছাড়াও কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম, নোয়াখালীর সেনবাগ, পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির রামগড়, চট্রগ্রামের মীরশরাই এলাকার দুর্ঘটনায় আহত ও রোগাক্রান্ত মানুষ  সংলগ্ন হাসপাতাল গুলিতে চিকিৎসা নিতে আসেন। এছাড়াও  ঢাকা- চট্রগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর সাথে ৪০ কিলোমিটার  সড়কের দুঘটনায় আহতরা  এ হাসপাতালে চিকিৎসা  দিতে আনা হয়।

ফেনী জেলায় ১ টি সদর হাসপাতাল, ৫ টি স্বাস্থ্য কমেপ্লেক্স ছাড়াও ৫২  টি সাব-সেন্টার রয়েছে। প্রতিটি  হাসপাতালে অনুমোদিত কন্সালটেন্ট, মেডিকেল অফিসার ও কমকর্তা  পদায়ন করা হয়েছে।  গত  ৩৩ বিসিএস এর ৮৫ জন মেডিকেল অফিসার ( ডাক্তার)ফেনী জেলায়  পদায়ন করা হয়েছে। এ ৮৫ জনের মধ্যে পদ না থাকায় ৪০ জনকে ওএসডি হিসাবে ( সংযুক্ত) দেয়া হয়েছে বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। উপজেলা স্বস্থ্য কমপ্লেক্সগুলিতে শীর্ষ কমকর্তারা  অনুপস্থিত থাকার সুযোগে কনসালটেন্ট ও মেডিকেল অফিসারগনও  কর্মস্থলে হাজির থাকেন না। মেডিকেল অফিসারগণ সাপ্তাহে ২/১ দিন হাজিরা দিয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করলেও কনসালটেন্টগন  মাসে ২/১ বার কর্মস্থলে গিয়ে  হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিয়ে বেতন ভাতা নিয়ে আসেন।  এসব কনসালটেন্টগন পুরো মাসই সকাল বিকাল ফেনীর বিভিন্ন হাসপাতালে প্রাইভেট প্যাকক্টিস করে আসেছেন বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন৷

ফুলগাজী  হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রুগী জরিনা খাতুন জানান- গাইনী  বিশেজ্ঞ  ডাক্তারকে  দেখাতে এসে ৪ দিন ফিরে গেছেন পৱে তিনি জানলেন ডাক্তাৱ ফেনী শহরের ক্লিনিকে বসেন। সেখানে দেখাতে যেতে হবে। হাসপাতালের  উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা  সকালে  এসে ফেনী তার  ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চলে যান। এ সুযোগের কারনে  অন্যন্য কনসালটেন্ট ও মেডিকেল অফিসাররা   যার যার ইচ্চা মত হাসপাতালে আসেযান বলে জানিয়েছেন  নামপ্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা।
পরশুরাম হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রুগী  আবদুল হক জানান  তার স্ত্রীর মহিলা রোগে কষ্ট পাচ্ছে,  মহিলা বিশেসজ্ঞ ডাক্তার  হাসপাতালে আসেন না। তার ফেনী শহরের চেম্বাওে নিয়ে যেতে বলেছেন অফিস কর্মচারী।

সোনাগাজী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রুগী আবদুস সবুর জানান হাসপাতালের ডাক্তাররা  রুগীদের চিকিৎসা   না দিয়ে    হাসপাতালের বাহিৱে বাজারের তাদের চেম্বাৱে গিয়ে  দেখা করতে বলেন। একই অবস্থা ফেনীর    অন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সাব সেন্টার গুলিতে ।

সরকারী কমস্থলে অনুপস্থিত থাকা কমকর্তা- কনসালটেন্ট, মেডিকেল অফিসারদের বেতন-ভাতার পেছনে সরকারের গচ্ছা যাচ্ছে প্রতিমাসে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা অথাৎ গত ১ বছরে প্রায় সোয়া কোটি টাকা। অতীতের জেলা সিভিল সাজনগন এসব অনিয়মের বিষয়ে ব্যবস্থা  হিসাবে অনুপস্থিত  উপজেলা স্বাস্থ্য কমকর্তা, কনসালটেন্ট, মেডিকেল অফিসারদের  নামে কারন দর্শানো নোটিশ দিয়েও অবস্থার কোন উন্নতি করতে পারেননি। সিন্ডিকেটের প্রভাবের কাছে স্বাস্থ্য বিভাগের শীর্ষ কমকর্তারা  অসহায় বিধায় কোন পদক্ষেপ নিতে পারেন না বলে জানা গেছে।

সিভিল সাজন ফেনী ডা:  হাসান শাহরিয়ার  কবির জানান- অনুপস্থিত ডাক্তারদের ব্যপারে উদ্ধতন কর্মকর্তাদেৱ লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে। উদ্ধতন কর্তৃপক্ষ এ ব্যপাৱে সিদ্ধান্ত নেবেন।

এদিকে ফেনী সদর হাসপাতাল নিয়ে গণমাধ্যমে কয়েকটি সংবাদ প্রকাশের পর  মন্ত্রনালয়  থেকে ব্যবস্থা গ্রহনকরা হয় । যার সুফল মানুষ পেতে শুরু করেছিলো। তারই ধারাবাহিকতায় হাসপাতালে কনসালটেন্ট ও ডাক্তারদেৱ  উপস্থিতিসহ রাত্রিকালিন কনসালটেন্টদেৱ রাউন্ড চলমান ছিলো।  মন্ত্রনালয় থেকে নিয়েগ দেয়া তত্বাবধায়ক  অবসৱে যাওয়ায়  সময়  আর মাত্র ৭ দিন বাকী । এরই মধ্যে কনসালটেন্টদেৱ রাত্রীকালিন রাউন্ড    বন্ধ হয়ে গেছে, ডাক্তারৱা হাসপাতালে আসছেন নিজেদেৱ খেয়ালখুশি অনুযায়ী।  অচলাবস্তার দিকে  যেতে বসেছে ফেনীর ২৫০ শয্যা সদৱ হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা কর্যক্রম। সুষ্ঠুভাবে ফেনী সদর  হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার জন্য  দক্ষ তত্বাবধায়ক দেয়ার দাবী জানিয়েছেন  সংশ্লিষ্টৱা৷

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *